জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ শেষ হতে চলেছে, আর সেই খবর সামনে আসতেই মন খারাপ দর্শকদের। ১৬ মে রাতে নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ধারাবাহিক শেষ হওয়ার কথা জানান অভিনেতা জিতু কমল। পরের দিন অর্থাৎ ১৭ মে ছিল শেষ দিনের শুটিং। সেই সময় অভিনেতা একটি পোস্ট করে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে কারও কোনও অভিযোগ থাকলে সরাসরি জানাতে পারেন। এরপর থেকেই টলিপাড়ায় শুরু হয় নানা আলোচনা। অনেকেই জানতে চেয়েছিলেন, সত্যিই কি সহঅভিনেতাদের সঙ্গে কোনও সমস্যা ছিল জিতুর? সেই প্রশ্নের উত্তর জানতেই ধারাবাহিকের অন্যান্য শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আর তাঁদের কথাতেই উঠে আসে এক অন্য ছবি।
ধারাবাহিকে জিতু কমলের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী শিরিন পাল। যদিও শুরুতে এই ধারাবাহিকের মুখ ছিলেন দিতিপ্রিয়া রায়, পরে গল্পে আসে বড় পরিবর্তন। সেই সময় থেকেই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায় শিরিনকে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দর্শকদের নজর কাড়েন। ধারাবাহিক শেষ হওয়ার খবর সামনে আসতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেত্রীও। শিরিন বলেন, “সব শুরুরই একটা শেষ থাকে। তেমনই এই ধারাবাহিকও যেমন শুরু হয়েছিল, তেমনই শেষও হচ্ছে। খুব মনখারাপ।” তিনি আরও জানান, শেষ দিনের শুটিং শেষে সেট ছেড়ে বেরনোর সময় তাঁর মনে হচ্ছিল, যেন নিজের বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
শিরিন আরও বলেন, “ছ’মাসে এক অন্য জগৎ তৈরি হয়েছিল। প্রত্যেকের সঙ্গে সখ্য তৈরি হয়েছিল। জিতুদার থেকে সব সময়ে সাহায্য পেয়েছি।” অভিনেত্রীর কথায়, জিতু কমলের সঙ্গে প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে খুবই বিশেষ। তিনি বলেন, “এটা আমার সৌভাগ্য যে, জিতুদা আমার প্রথম হিরো। ক্যামেরার সামনে প্রথম দৃশ্যের শট ওঁর সঙ্গে দিয়েছি। এটা বড় পাওনা আমার জীবনে।” শিরিনের এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, সহঅভিনেতা হিসেবে জিতুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যথেষ্ট ভালো ছিল। কাজের ক্ষেত্রেও তিনি সবসময় সহযোগিতা পেয়েছেন বলেই জানান অভিনেত্রী।
এই ধারাবাহিকে জিতুর ভাইয়ের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী দীর্ঘয়ী পাল। তিনিও স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর কখনও কোনও সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি। দীর্ঘয়ী বলেন, “আমার কাছে জিতুদা দাদার মতো। কোনও সমস্যা নিয়ে গেলে সবসময়ে সমাধান পেয়েছি। অনেকটা ছাদের মতো।” অভিনেত্রী আরও জানান, কাজের সময় তিনি বরাবর সাহায্য পেয়েছেন জিতুর কাছ থেকে। শুধু দীর্ঘয়ী নন, অভিনেতা তন্ময় মজুমদারও একই কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, সেটে কখনও কোনও বিবাদ বা অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং সকলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেই কাজ করেছেন তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ “ফার্স্ট হতাম কিন্তু তাও…” আজকের সুপারস্টার দেবের ছোটবেলায় কোন না-পাওয়ার কষ্ট লুকিয়ে ছিল মধ্যবিত্ত সংসারের চার দেওয়ালের ভিতরে? সাফল্যের ঝলকের আড়ালে কোন লড়াইয়ের গল্প শোনালেন অভিনেতা?
টলিপাড়ার একাংশের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ধরনের আলোচনা চলছে, তা মূলত জিতু কমলের ব্যক্তিগত জীবনকে কেন্দ্র করেই। কর্মক্ষেত্রে তাঁর আচরণ নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে তেমন কোনও নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নেই বলেই দাবি তাঁদের। ধারাবাহিকের শিল্পীদের বক্তব্য থেকেও সেই ইঙ্গিতই মিলেছে। শেষ দিনের শুটিংয়ে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল গোটা সেটে। দীর্ঘ কয়েক মাস একসঙ্গে কাজ করতে করতে শিল্পীদের মধ্যে আলাদা সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। তাই ধারাবাহিক শেষ হওয়ায় মন খারাপ গোটা টিমেরই। দর্শকদের কাছেও ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল বলেই মনে করছেন অনেকে।
